চলতি বছর দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি

৪৫০০ ডলার ছাড়াল স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দর

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেল স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেল স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম। একই সঙ্গে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে রুপা ও প্লাটিনামের দামও। বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও বাণিজ্য খাতের অস্থিরতায় আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুর বিনিয়োগ চাহিদা এখন ক্রমেই বাড়ছে। খবর রয়টার্স।

এসব পণ্যের দামের ঊর্ধ্বমুখিতায় আরেকটি বড় প্রভাবক হয়ে উঠেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) মুদ্রানীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা। তাদের ধারণা, ২০২৬ সালে আরো কয়েক দফা সুদহার কমাতে পারে ফেড। এসবেরই সম্মিলিত প্রভাবে গতকাল ৪ হাজার ৫০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক স্তর ভেঙে ফেলে স্বর্ণের দাম।

স্পট মার্কেটে গতকাল দিনব্যাপী লেনদেনের এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫২৫ ডলার ১৯ সেন্টে পৌঁছে যায়। আধুনিক পণ্যবাজার ব্যবস্থা প্রচলনের পর থেকে এ পর্যন্ত এটিই স্বর্ণের রেকর্ড সর্বোচ্চ মূল্য। তবে পরে বাজার কিছুটা সংশোধন হয়ে বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা নাগাদ স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৮১ ডলার ৯০ সেন্টে কেনাবেচা হচ্ছিল মূল্যবান ধাতুটি। আর যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০৯ ডলার ২০ সেন্টে।

একই সময়ে রুপার দাম আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৭১ ডলার ৯৫ সেন্টে। এর আগে লেনদেনের এক পর্যায়ে তা রেকর্ড ৭২ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছে যায়। একইভাবে প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৩২৩ ডলার ৯৫ সেন্টে। এর আগে এক পর্যায়ে তা রেকর্ড ২ হাজার ৩৭৭ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছে যায়।

এছাড়া বাজারে গতকাল প্যালাডিয়ামের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১ হাজার ৯১৯ ডলার ১৭ সেন্টে, যা তিন বছরে সর্বোচ্চ।

শিকাগোভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, ‘বর্তমানে পৃথিবী বিশ্বায়নের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছে। এ অবস্থায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অস্বস্তিকর সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কোনো দেশের সার্বভৌম ঝুঁকি নিরপেক্ষভাবে পারফর্ম করতে সক্ষম এমন সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। মূল্যবান ধাতুর বাজার এখন এমন ধারণাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।’

তিনি মনে করছেন, বাজারে স্বর্ণের দাম আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। রুপার দামও আউন্সপ্রতি ৮০ ডলারের দিকে এগিয়ে যাবে। কারণ বাজার এখন মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর প্রতি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল আচরণ করছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি। ১৯৭৯ সালের পর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দামে এটিই সর্বোচ্চ বার্ষিক উল্লম্ফন। মূলত আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক মাত্রায় স্বর্ণের ক্রয় বৃদ্ধি, বাজারে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতা এবং ইটিএফগুলোর বিনিয়োগই স্বর্ণের দামকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে। আবার আগামী বছর ফেড অন্তত দুই দফায় সুদহার কমাবে বলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা কাজ করছে।

আরও